ঢাকা রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক গাফিলতি: ভ্যাকসিন সংকটে ২৮০-র বেশি শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮ হাজার
প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১১:১১ পিএম
হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ এত বড় মাপের হাম মহামারির মুখোমুখি হয়নি। যে দেশ একসময় টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেয়েছিল, আজ সেই দেশেই হামের মতো সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগে ঝরছে শত শত শিশুর প্রাণ। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ২৮০-র বেশি শিশু। মৃত্যুর এই মিছিল যেন থামার নামই নিচ্ছে না।

স্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত (বর্তমান পরিসংখ্যান (১৫ মার্চ - ২৫ এপ্রিল ২০২৬))

বিবরণ সংখ্যা
সন্দেহভাজন আক্রান্ত ৩৮,৩০১ জন
নিশ্চিত আক্রান্ত ৫,১৪৬ জন
হাসপাতালে ভর্তি ২০,৪৭৫ জন
নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৪৯ জন
সন্দেহজনক হামে মৃত্যু ২৩১ জন
মোট মৃত্যু ২৮০+ জ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে—প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে।

কোন বয়সের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে:

  • ৭৯ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম
  • ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের কম
  • ৩৩ শতাংশের বয়স নয় মাসের কম (টিকা পাওয়ার বয়স হওয়ার আগেই)

যারা মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি এবং ২১ শতাংশ মাত্র একটি ডোজ পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৮৫ শতাংশ শিশুই অরক্ষিত ছিল।

বিপর্যয়ের পেছনের কারণ

প্রথমত: ভ্যাকসিন সংগ্রহে নীতিগত ব্যর্থতা

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাস ভ্যাকসিন ব্যবস্থা অচল করে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলার টিকা সংগ্রহ করা হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়া বাতিল করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে।

ইউনিসেফ বারবার সতর্ক করেছিল। সংস্থার তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস বারবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে অনুরোধ করেছিলেন, “For God's sake … don't do this” (ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে বলছি, এটি করবেন না)। কিন্তু সে সতর্কবাণী উপেক্ষা করা হয়।

দ্বিতীয়ত: অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল

২০২৫ সালের ৬ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে ১৪টি অপারেশনাল প্ল্যান (OP) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্রায় সব বিভাগই সতর্ক করেছিল যে এই সিদ্ধান্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ বিপর্যয় ডেকে আনবে, স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া যাবে, এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কিন্তু এই সতর্কতা উপেক্ষিত হয়।

তৃতীয়ত: ক্যাম্পেইন স্থগিত ও টিকাদানের হার কমে যাওয়া

২০২৪ সালের জন্য নির্ধারিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি রাজনৈতিক অস্থিরতার pretext এ ২০২৫ সালে পিছিয়ে দেওয়া হয়, পরে তা সম্পূর্ণ বাতিল হয়। ফলাফল:

২০২৪ সালে টিকার প্রথম ডোজ কভারেজ: ৯৫ শতাংশ

২০২৫ সালে টিকার প্রথম ডোজ কভারেজ: মাত্র ৫৯ শতাংশ

হার্ড ইমিউনিটির জন্য প্রয়োজন ৯৫ শতাংশ কভারেজ। এই হার অনেক কমে যাওয়ায় ভাইরাসের বিস্তার অনিবার্য হয়ে ওঠে।

চতুর্থত: স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া

সিলেট মিরররের তদন্ত অনুযায়ী, হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও ভ্যাকসিন পরিবহনকারী পোর্টারদের বেতন জুলাই ২০২৪ থেকে বকেয়া ছিল। বেতন না পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেন, টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

কারা দায়ী? নাম ও পদসহ তালিকা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহলে এখন যে নামগুলো দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে:

১. ড. মুহাম্মদ ইউনূস (সাবেক প্রধান উপদেষ্টা)

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে পুরো প্রশাসনের দায়িত্ব তাঁর shoulders এ ছিল। গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম দেশের তিন সচিব বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ড. ইউনূসসহ ১২ জনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও তদন্তের আবেদন জানান। ওই নোটিশে তাঁদের সিদ্ধান্তকে "অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড" ও "দুষ্কৃতিকর" বলে অভিহিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, "রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে ইউনূসের সরকার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি বাতিল করে"।

২. নুরজাহান বেগম (সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা)

ভ্যাকসিন সংগ্রহ সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালুতে তিনি প্রধান ভূমিকা রাখেন। সায়েন্স জার্নাল জানিয়েছে, প্রশ্নের উত্তরে নুরজাহান বেগম সাড়া দেননি। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যখাতের অদক্ষ ব্যক্তি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

৩. ডা. সায়েদুর রহমান (সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী)

সিলেট মিরররের অনুসন্ধান বলছে, ডা. সায়েদুর রহমান হচ্ছেন এই সংকটের মূল স্থপতি। তিনি ডিজিএইচএস-এর অধিকাংশ সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং অপারেশনাল প্ল্যান বাতিলের সিদ্ধান্ত জোরালোভাবে এগিয়ে নেন। একাধিক কর্মকর্তা সতর্ক করলেও তিনি নিজ অবস্থানে অটল থাকেন। মাঠপর্যায়ের এক সিনিয়র চিকিৎসক anonymous এ সূত্রে বলেছেন, "তাঁর বিশেষ ক্ষমতার কারণে কেউ খোলাখুলি কথা বলতে সাহস পেত না"।

৪. সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা

আইনি নোটিশে ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীসহ সকল উপদেষ্টার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা এই নীতি ব্যর্থতার বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছেন বা সমর্থন দিয়েছেন।

৫. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা (পরোক্ষ দায়)

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ডিজিএইচএসের কর্মকর্তারাও দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। ২০২৫ সালে টিকার মজুত শেষ হয়ে গিয়েছিল, অথচ প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরও তাদের পক্ষ থেকে কোনো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

সায়েন্স জার্নাল

বিশ্বখ্যাত সায়েন্স জার্নালের প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহের হঠকারী সিদ্ধান্তকেই এই ভয়াবহ মহামারির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই "বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত" ভ্যাকসিন মজুত শেষ করে দেয় এবং টিকাদানের হার নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে।

বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য) বলেছেন:

“ইপিআই ভাঙার সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই নেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালে ইপিআই শুরু হওয়ার পর এত বড় সংকট কখনো ছিল না। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভ্যাকসিন কেনা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।”

ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী (সাবেক জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ব্যবস্থাপক) বলেছেন:

“হাম প্রতিরোধে প্রতিটি জেলায় ৯৫ শতাংশ টিকাদান প্রয়োজন, যা আমরা অর্জন করতে পারিনি। ২০২০ সালের পর কোনো বড় ক্যাম্পেইন হয়নি, যার কারণে ৫ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকির মধ্যে জমা হয়েছে।”

ডা. বেনজীর আহমেদ (সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:

“এ হারে টিকা দিতে থাকলে সংক্রমণ এখনই কমবে না। আরও ২ সপ্তাহ সময় লাগবে প্রভাব দেখতে।”

অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক (WHO সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা) বলেছেন:

“স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নানাবিধ দুর্বলতা আছে। এই দুর্বলতার বড় প্রমাণ হলো আমরা সময়মতো টিকা দিইনি এবং জাতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছি।”

ডা. লেলিন চৌধুরী (জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ) বলেছেন:

“যাদের সিদ্ধান্তের জন্য টিকা কেনা, টিকা দেওয়া বন্ধ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হার্ড ইমিউনিটি নষ্ট হয়ে গেছে।”

আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের দাবি

গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ড. ইউনূসসহ ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা ও কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জবানবন্দি তদন্ত দাবি করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে:

  • টিকা সংগ্রহের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ২৮০-র বেশি শিশু মারা গেছে
  • সরকারি টিকাদান ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসরকারি খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে
  • এটি একটি “অপরাধমূলক” ও “দুষ্কৃতিকর” কর্মকাণ্ড

নোটিশে ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়েরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেছেন:

“রাজনৈতিক দোষারোপ নয়, প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি দরকার। কখন থেকে ব্যবস্থাটি ভাঙতে শুরু করল? কে জানত? কী করা উচিত ছিল কিন্তু করা হয়নি?”

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • ইউনিসেফের মাধ্যমেই আবারও টিকা সংগ্রহ শুরু
  • ১৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু
  • ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, অব্যবহৃত এডিবি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেছেন:

“বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর মৃত্যু হয়। সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে দুই সরকারই।”

এক নজরে দায়ের সারসংক্ষেপ

নাম পদমর্যাদা (তৎকালীন) অভিযোগ
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা পুরো প্রশাসনের দায়িত্বে ব্যর্থতা
নুরজাহান বেগম স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ভ্যাকসিন নীতি নির্ধারণ, সতর্কতা উপেক্ষা
ডা. সায়েদুর রহমান বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অপারেশনাল প্ল্যান বাতিলের মূল স্থপতি
আসিফ নজরুল রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ উপদেষ্টা সমর্থন ও অজ্ঞতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রশাসনিক সংস্থা অবহেলা ও সমন্বয়হীনতা

হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এই মৃত্যুগুলো অনিবার্য ছিল না। প্রতিটি শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত—যদি সময়মতো টিকা কেনা হতো, যদি স্বাস্থ্যকর্মীরা বেতন পেতেন, যদি ইউনিসেফের সতর্কবাণী উপেক্ষা না করা হতো।

যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যারা সতর্কবাণী উপেক্ষা করেছেন, যারা স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া রেখেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, যাদের হাতে ২৮০-র বেশি শিশু অকালে মারা গেছে—তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আইনি নোটিশ, সংসদীয় বক্তৃতা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—সবকিছু এখন এক সুরে বলছে: এই শিশুহত্যার মহাপাপের বিচার হোক। এখনই হোক। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তবেই ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আমাদের শিশুদের মরতে হবে না।

তথ্যসূত্র

১. সায়েন্স জার্নাল, "Interim government altered measles vaccine procurement defying UNICEF calls" (২ মে ২০২৬) – bdnews24.com

২. Daily Observer, "Legal notice seeks travel ban on Dr Yunus, ex-advisers" (৬ এপ্রিল ২০২৬)

৩. bdnews24.com, "Travel ban requested for Yunus, former advisors" (৬ এপ্রিল ২০২৬)

৪. Lokmat Times, "Yunus govt's policy shift linked to explosive measles epidemic" (২ মে ২০২৬)

৫. Decha.com, "Legal Notice Seeks Travel Ban on Dr. Yunus and Officials" (১১ এপ্রিল ২০২৬)

৬. Samakal English, "Measles outbreak means increased risk of other infectious diseases" (৩ এপ্রিল ২০২৬)

৭. Sylhet Mirror, "Children victims of ‘special’ authority" (১৯ এপ্রিল ২০২৬)

৮. The Daily Star, "‘We must vaccinate 95 percent of the children to curb measles outbreak’" (মে ২০২৬)

৯. World Health Organization (WHO) - "16th Meeting of the South-East Asia Immunization Technical Advisory Group"

১০. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন, এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

৩ মে ১৯৭১: অবরুদ্ধ স্বদেশ ও বিশ্ববিবেকের আর্তনাদ

হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

হাম মহামারিতে বাংলাদেশে নিরীহ শিশুদের মৃত্যুর মিছিল

ঈশানগোপালপুর গণহত্যা: ফরিদপুরে ১৯৭১ সালের ২ মে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

গাভা নরেরকাঠী গণহত্যা: ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়

২ মে ১৯৭১: রাজাকাররা বরিশাল ও ফরিদপুরে নির্মম গণহত্যা চালায়

রেমিট্যান্সের রেকর্ডের আড়ালে ঢাকা পড়ছে লাশের মিছিল

আসিফ নজরুলের ১৮ মাস: দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ‘বদলি বাণিজ্য’

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: আমিরাতকে রক্ষায় ঢাল হলো ইসরায়েলি ‘লেজার প্রযুক্তি’

১০

১ মে ১৯৭১: ইতিহাসের আয়নায় রক্তঝরা দিন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

১১

উনুস সওদাগরের সালতামামি

১২

ঋণের জালে পিষ্ট অর্থনীতি

১৩

খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ পার, বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আদায়

১৪

রাউজানে থামছে না লাশের মিছিল: নেপথ্যে আধিপত্য ও বালুমহাল

১৫

নাফ নদী থেকে আরাকান আর্মির হাতে ৭ জেলে অপহৃত

১৬

৩০ এপ্রিল ১৯৭১: ‘বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামীরা যুদ্ধে জয়ী হবেই’

১৭

নিবর্তনমূলক আইনে মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: জাতীয় স্বার্থ সংকট ও প্রতিবাদের আওয়াজ

১৯

ডিজিটাল অরাজকতা বনাম কর্পোরেট শাসন / সোশ্যাল মিডিয়া কি ‘প্যারালাল সরকার’?

২০