

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আজ এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত তেল আবিবের ‘বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ আজ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরাসরি আঘাত বেন গুরিয়নে
ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার পর বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে আজ দিনভর তেল আবিবের আকাশেও ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের মেলা। লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, একের পর এক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের দিকে ধেয়ে আসছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
যুদ্ধ নিয়ে সুর পাল্টালেন ট্রাম্প
এদিকে ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ অভিযান শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন ৪ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হবে। তবে পরিস্থিতির জটিলতায় আজ তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। যত সময়ই লাগুক, আমি ইরানে আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে চাই।”
ট্রাম্পের ‘চার লক্ষ্য’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে তার মূল চারটি লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন: ১. ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। ২. ইরানের কোনো ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারবে না। ৩. মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। ৪. ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত বুধবার বলেছিলেন যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ চলতে পারে, কিন্তু ট্রাম্পের আজকের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকেই হাঁটছে।
রণক্ষেত্রের বর্তমান চিত্র
ইরানে যৌথ বাহিনীর বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলেও তেহরানের পাল্টা আঘাত ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে অস্থির করে তুলেছে। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আজকের এই হামলা ইসরায়েলের আকাশপথের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার তুরুপের তাসগুলো একে একে বের করতে শুরু করেছে, যা যুদ্ধের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
মন্তব্য করুন