

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকারি আমন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)-এর প্রধান পরাগ জৈন। অন্যদিকে, দুই দেশের পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর
সরকারের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে রোববার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পরাগ জৈন। বর্তমানে প্রতিনিধি দলটি ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছে।
পরাগ জৈন ভারতের ‘র’-এর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-এর স্পেশাল সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী। বাংলাদেশে আসার আগে ‘র’ প্রধান চীন সফর করেছিলেন। তবে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের এই সফরের বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারত—কোনো দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এরপর হাইকমিশনার ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যা মূলত কূটনীতি ও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাস ও সীমান্তের বাস্তবতা বদলানো যাবে না। আমরা একে অপরের সঙ্গে স্বপ্ন ভাগাভাগি করি। আশা করি, আগামী দিনগুলোও ভালো যাবে।” উভয় পক্ষকেই নিজেদের ইস্যুগুলো সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এমন কোনো সমস্যা নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষও দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকুক—এটাই প্রত্যাশা করে।
মন্তব্য করুন