ঢাকা শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ: অন্তরালের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
০১ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
১৯৭১ সালের ১৭ ই এপ্রিল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। ইতিহাসের পাতায় এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা মহকুমার (বর্তমানে মেহেরপুর জেলা) বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী সদরদপ্তর—মুজিবনগর। এই দিনই শপথ গ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। কিন্তু এই মহান আয়োজনের পেছনে ছিল বিপুল অজানা গল্প, গোপন প্রস্তুতি ও ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা।

পরিকল্পনার সূচনা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল একটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আন্তর্জাতিক মহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে এটি একটি বড় কৌশল ছিল। পাকিস্তান সরকার যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে রেখেছিল, সেখানে বিশ্বের কাছে একটি সাংবিধানিক ও সংগঠিত সরকারের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য এ আয়োজন ছিল জরুরি।

বৈদ্যনাথতলা নির্বাচনের পেছনের কারণ স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিতে হয়েছিল অসাধারণ সতর্কতা। বৈদ্যনাথতলা ছিল সীমান্তের নিকটে এবং ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় সুরক্ষিত। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল নিরাপত্তা বলয়ে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেকেন্ড মাউন্টেন ডিভিশনের সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল অনুষ্ঠানস্থল।

শপথ গ্রহণের মুহূর্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ। এই সরকারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।

বিশ্ব মিডিয়ার উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়ের অন্যতম একটি চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। বিবিসি, রয়টার্স, টাইমস, হিন্দুস্থান টাইমসসহ আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বহু সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি প্রচার না হলেও এর প্রতিবেদন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

অন্তরালের রুদ্ধশ্বাস প্রস্তুতি অনুষ্ঠানের মাত্র একদিন আগেই এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ করা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিকল্প স্থান ও গেটওয়ে। ভারতীয় আর্মি এবং মিত্রবাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ইতিহাসে এর গুরুত্ব এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর আদর্শ এবং নেতৃত্বে একটি সরকার সংগঠিত হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত বিজয়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রেমিট্যান্সের রেকর্ডের আড়ালে ঢাকা পড়ছে লাশের মিছিল

আসিফ নজরুলের ১৮ মাস: দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ‘বদলি বাণিজ্য’

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: আমিরাতকে রক্ষায় ঢাল হলো ইসরায়েলি ‘লেজার প্রযুক্তি’

১ মে ১৯৭১: ইতিহাসের আয়নায় রক্তঝরা দিন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

উনুস সওদাগরের সালতামামি

ঋণের জালে পিষ্ট অর্থনীতি

খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ পার, বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আদায়

রাউজানে থামছে না লাশের মিছিল: নেপথ্যে আধিপত্য ও বালুমহাল

নাফ নদী থেকে আরাকান আর্মির হাতে ৭ জেলে অপহৃত

৩০ এপ্রিল ১৯৭১: ‘বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামীরা যুদ্ধে জয়ী হবেই’

১০

নিবর্তনমূলক আইনে মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

১১

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: জাতীয় স্বার্থ সংকট ও প্রতিবাদের আওয়াজ

১২

ডিজিটাল অরাজকতা বনাম কর্পোরেট শাসন / সোশ্যাল মিডিয়া কি ‘প্যারালাল সরকার’?

১৩

২৯ এপ্রিল ১৯৭১: গণহত্যার বিভীষিকা ও আন্তর্জাতিক জনমতের প্রবল চাপ

১৪

শেখ জামাল: এক অকুতোভয় বীর ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক উত্তরাধিকার

১৫

নতুন সরকারের আড়াই মাসে ১ হাজার ১৩০টি হত্যা-ধর্ষণ মামলা

১৬

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে শুরু হলো ইউরেনিয়াম লোডিং

১৭

ফজলুর রহমানের মন্তব্যে তোলপাড় সংসদ / শহীদ পরিবারের কোনো সদস্যের জামায়াতের রাজনীতি করা অসম্ভব

১৮

২৮ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের ডাক ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধের নতুন মাত্রা

১৯

২৭ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের জাগ্রত কণ্ঠ ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

২০