

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয়।
প্রথমার্ধ: জাপানিজ ডিফেন্স ও সানোর চমক
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ব্রাজিল। প্রথম ১০ মিনিট তারা প্রতিপক্ষের ওপর একচেটিয়া চাপ সৃষ্টি করলেও জাপানের সুসংগঠিত ও জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে ব্রাজিল ৪টি ও জাপান ১টি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না।
ম্যাচের মোড় পরিবর্তন: প্রথমার্ধের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ থেকে ফিরেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মাঝমাঠে ব্রাজিলের একটি ভুল পাস ধরে গতিতে কাসেমিরোকে পরাস্ত করেন জাপানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাইশু সানো।
প্রথম গোল: ডি-বক্সের বেশ দূর থেকে নেওয়া এক চমৎকার শটে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জাপানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন সানো। জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
গোল হজমের পর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ভিনিসিউস জুনিয়র, মাতেউস কুইয়া ও কাসেমিরোরা বল দখলে রাখলেও জাপানের ‘চীনের প্রাচীর’ সমতুল্য রক্ষণের সামনে কোনো সৃজনশীলতা দেখাতে পারেননি। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
দ্বিতীয়ার্ধ: আনচেলত্তির চাল ও ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন
আক্রমণের ধার বাড়াতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুকাস পাকেতার পরিবর্তে তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। এই পরিবর্তনের পর ব্রাজিলের খেলায় গতি ফেরে।
কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল: ৫৫তম মিনিটে কাসেমিরোর একটি হেড গোললাইন থেকে প্রতিহত হলেও, তার ঠিক পরের মিনিটেই (৫৬ মিনিটে) সমতায় ফেরে ব্রাজিল। ভিনিসিউসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে গাব্রিয়েল মাগালাইস ডি-বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক ক্রস বাড়ান দূরের পোস্টে। সেখান থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো (১-১)।
ভিনিসিউসের দুর্ভাগ্য: ৬০তম মিনিটে ব্রাজিলের এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তবে গ্রুপ পর্বে ৪ গোল করা ভিনিসিউসের শট জাপানিজ গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অন্তিম মুহূর্তের নাটকীয়তা ও মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোল
ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোচ্ছিল, জাপান তত বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে উঠছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিটে) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
ডান দিক থেকে শুরু হওয়া ব্রাজিলের একটি আক্রমণে বেশ কয়েকজন সতীর্থের পা ঘুরে বল পান ব্রুনো গিমারেস। তার নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান আর্সেনাল ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। বিশ্বকাপে এটি মার্তিনেল্লির প্রথম গোল, যা ব্রাজিলকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়।
ম্যাচ পরিসংখ্যান ও জাপানের নকআউট ট্র্যাজেডি
পুরো ম্যাচে ব্রাজিল ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে ১৯টি শটের মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে, জাপান মাত্র ৫টি শট নিতে পারে, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে।
নকআউট পর্বের গেরো: এই হারের ফলে জাপানের নকআউট পর্বের দুর্ভাগ্য এবারও কাটল না। বিশ্বকাপে এ নিয়ে পাঁচবার নকআউট পর্বে উঠল এশিয়ার পরাশক্তিরা, তবে প্রতিবারই তাদের বিদায় নিতে হলো প্রথম ম্যাচ থেকেই (আগের চারবার শেষ ষোলোতে এবং এবার শেষ বত্রিশে)।
মন্তব্য করুন