ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরানে বড় আক্রমণের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ইরানে বড় আক্রমণের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে আরও বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠককে সামরিক সংঘাত এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে হোয়াইট হাউস। আলোচনা ভেস্তে গেলে কী করা হবে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদরদপ্তর, পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবকাঠামো। সীমিত এই হামলার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ছাড়তে চাপ দেওয়া হতে পারে।

যদি তাতেও ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে বছরের শেষ দিকে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হতে পারে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষমতা দুর্বল করা—এমন ইঙ্গিতও প্রতিবেদনে রয়েছে।

পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের হামলা হলে ইরান ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলার নির্দেশ দিতে পারে। গোয়েন্দা মহলে কিছু যোগাযোগ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা এখনো শনাক্ত হয়নি।

ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী আবার লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপে হিজবুল্লাহর সুপ্ত সেল কিংবা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালকের একটি প্রস্তাব নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে শুধু চিকিৎসা গবেষণার জন্য সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন 'শূন্য সমৃদ্ধকরণ' নীতির কথাই বলছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির অধিকার ছাড়তে রাজি নয় বলে বারবার জানিয়ে এসেছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইরানে বিশেষ অভিযান চালানোর কিছু পরিকল্পনা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে। একাধিক বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি।

অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ইউরোর একটি অস্ত্রচুক্তি করেছে। এর আওতায় আগামী কয়েক বছরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই চুক্তি ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে উভয় পক্ষ। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির জেনেভা বৈঠক ও তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৬ এপ্রিল ১৯৭১: শপথের প্রতীক্ষা ও রণক্ষেত্রের আর্তনাদ

মুজিবনগর ও আমাদের প্রথম সাংবিধানিক পরিচয়

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

১০

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

১১

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

১২

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

১৩

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

১৪

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

১৫

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

১৬

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৭

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

১৮

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১৯

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

২০