

শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির আবহে ভিন্ন এক সুরে সেজেছে প্রকৃতি। বর্ষার এমন স্নিগ্ধতায় দেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ ধারাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো ‘বর্ষামঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে শিল্পসুধার এই বিশেষ আসর। বর্ষামঙ্গল পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রাণবন্ত উৎসবে ছিল বর্ষার গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনাসহ নানারকম সাংস্কৃতিক আয়োজন। নানা বয়সী সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।
নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা ও সর্বজনীনতার লক্ষ্য
বর্ষামঙ্গল পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য হলো বর্ষাকালীন সংস্কৃতি ও লোকজ জীবনধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা এবং তাঁদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও গর্ববোধ জাগিয়ে তোলা। আয়োজকেরা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, পহেলা বৈশাখের মতো এই উৎসবকেও ভবিষ্যতে একটি সর্বজনীন, জনপ্রিয় ও জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে এবং প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে এর আয়োজন চলবে।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও অপসংস্কৃতি মোকাবিলার প্রয়াস
উৎসবে বক্তব্য প্রদানকালে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব অনন্ত হিরা বলেন, “বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্ম ক্রমেই সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিও নানা ধরনের আগ্রাসনের মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতায় এমন একটি আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে।”
আয়োজকদের মতে, শিল্প, সাহিত্য ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ভাবনা থেকেই এই প্রয়াস।
শিল্পসুধার মিলনমেলা
বিকেল ৫টায় নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘটে। পরে বর্ষার ঐতিহ্যকে নান্দনিকভাবে মঞ্চে উপস্থাপন করেন দেশের নামকরা শিল্পী, কবি, আবৃত্তিশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীরা। বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় কবি-সাহিত্যিকদের কালজয়ী সৃষ্টি নিয়ে নাচ, গান আর আবৃত্তির সুরমূর্ছনা পুরো রবীন্দ্র সরোবরকে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করে।
উদ্বোধনী ও মূল আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকেরা।
মন্তব্য করুন