
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যনাটের বিশেষ আয়োজন ‘লালযাত্রা’। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রা ও প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হবে।
ঐক্যের আহ্বানে লালযাত্রা
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ চত্বর (টিএসসি) থেকে এই লালযাত্রা শুরু হবে। নাট্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই শোভাযাত্রাটি স্মৃতি চিরন্তন (ফুলার রোড) এলাকায় গিয়ে শেষ হবে। ২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রাচ্যনাট এই কর্মসূচি পালন করে আসছে। লাল পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের এই মিছিলে লাল রংকে শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা একই সঙ্গে শোক ও দ্রোহের বার্তা বহন করে।
একাত্তর থেকে জুলাই ২০২৪: বিপন্ন মানবতার তরে শ্রদ্ধাঞ্জলি
প্রাচ্যনাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের লালযাত্রা কেবল ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের শহীদদের প্রতিই নয়, বরং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গণহত্যার শিকার সকল মানুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। আয়োজকদের মতে, একাত্তরের সেই দীর্ঘ কালরাত্রির রক্তের পথ ধরে অর্জিত স্বাধীনতাকে বুকে ধারণ করেই আজ মুক্তির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে দ্রোহ
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন, গাজা, লেবানন, ইউক্রেন-রাশিয়া, সুদান কিংবা ইরান-আমেরিকার ক্ষমতার লড়াইয়ে যে নিষ্পাপ রক্ত ঝরছে, তার বিরুদ্ধেও এই লালযাত্রার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে। আয়োজকরা জানান, বিচারের দাবিতে এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটি একটি শৈল্পিক দ্রোহ। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রতিবছর ২৫শে মার্চের প্রাক্কালে এই কর্মসূচির মাধ্যমে একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার দাবি জানানো হয়।
মন্তব্য করুন